বিশ্বাস যেখানে শূন্য, সেখানে রক্তের সম্পর্কেরই বা কী মূল্য? 

টাকা দিয়ে বিচার করা যায় না। সময় বদলাতে পারলে মানুষও তো বদলাতে পারে, তাই না? কিন্তু টাকা দিয়ে কাউকে বিচার করা কি ঠিক?"

এই কথাগুলো আজ সারাদিন ধরে মাথার মধ্যে ঘুরছে নীহারিকার।

সকাল থেকেই মন খারাপ।
মা ফোন করে বলেছিল—
“তুই আমার জিনিস না ছুঁলেই ভালো হতো। সব নষ্ট করে দিস।”
তারপর থেমে না থেকে বলেছিল,
“এই যে তোর জন্য ও জিনিসটা কিনে দিয়েছিলাম, এখন সেটা ভেঙে গেছিস—তুই কি জানিস ওটার দাম কতো ছিল?”

একটা অদ্ভুত অভিমান ভেসে উঠেছিল তখন নীহারিকার মনে।
“ওটা উপহার দিয়েছিলে, না ধার দিয়েছিলে? ভালোবেসে কিছু দিলে তার দাম পরে চোকাতে হয় নাকি?”


সে কিছু বলেনি। কণ্ঠ আটকে গিয়েছিল।

তবু মনটা কেমন যেন ফুঁসে উঠেছিল—নিজেকে চোর চোর লাগছিল
কেউ তার কিছু চুরি করেনি, কোনো অপরাধ করেনি—তবু যেন চারপাশের অভিযোগগুলো ওকে একরকম অপরাধী বানিয়ে দিচ্ছিল।

মায়ের কথায় শুধু না, ভাইয়েরও একই ভাষা—
“তুই তো নিজের কক্ষেও কিছু ঠিকঠাক রাখতে পারিস না, নিজের জিনিসটাই তো নষ্ট করিস! তোরে দিয়ে কিছু হয়?”

আজ তার মনটা প্রশ্নে ভরে গেছে।

“নিজের জিনিস ভাঙলে কি কেউ চোর হয়?”
“নিজের কষ্টের জিনিসটুকু শেষ করে ফেললে কাউকে কৈফিয়ত দিতে হয়?”

সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কগুলো বদলে গেছে।
একসময় মা তাকে আঁকড়ে ধরত, বলত—“তুই না থাকলে আমার চলে না।”
আজ সেই মা তার দিকে তাকিয়ে বলে—“তুই কি কিছু করিস?”
সময়ের সাথে যদি সম্পর্ক এতটাই বদলাতে পারে, তাহলে মানুষ কেন বদলায় না?

নীহারিকা জানে, এই অভিযোগের তালিকা আর কমবে না।
যেখানে বিশ্বাস নেই, সেখানে ভালোবাসা অভিনয় হয়ে যায়।
আর যেখানে সব হিসেব টাকার মাপে হয়, সেখানে সম্পর্ক কেবল একটা বিনিময়।

সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখে।
“তুই চোর না, নীহারিকা। তুই কারো কিছু চাসনি।
তুই শুধু একটু বোঝা, একটু আশ্রয় চেয়েছিলি—আর সেখানেই তোর অপরাধ।”

আজ সে আর কৈফিয়ত দেয় না।
দেয়ালের ঘড়ির মতোই থেমে থাকে কিছু কথা।
তবু সে নিজের ভেতরের ক্ষতটা নিয়ে হেঁটে চলে…
কারণ সে জানে—কেউ বোঝে না, বোঝার ভান করে শুধু হিসেব রাখে।